লাইপোঅ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি
লাইপোঅ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি কী?
লাইপোঅ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি হলো আধুনিক কসমেটিক সার্জারি, যেখানে একসাথে লিপোসাকশন (চর্বি অপসারণ) আর অ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি বা টামি টাক (পেট টাইট করা) করা হয়। এতে বাড়তি মেদ, ঢিলা চামড়া আর দুর্বল পেটের পেশি ঠিক করে পেটকে ফ্ল্যাট ও টোনড করে তোলা হয়।
কারা এই সার্জারি করতে পারবেন?
* যাদের পেটের বাড়তি চর্বি ডায়েট বা এক্সারসাইজে কমছে না।
* গর্ভধারণ বা অতিরিক্ত ওজন কমার পর যাদের পেটের চামড়া ঢিলা হয়ে গেছে।
* যারা একসাথে চর্বি কমানো আর পেটের চামড়া টাইট করতে চান।
সার্জারি কীভাবে করা হয়?
* ধাপ ১: লিপোসাকশন দিয়ে পেটের অতিরিক্ত চর্বি কমানো হয়।
* ধাপ ২: দুর্বল পেটের পেশি শক্ত করে টাইট করা হয়।
* ধাপ ৩: বাড়তি চামড়া কেটে ফেলে পেটকে সুন্দর শেপ দেওয়া হয়।
এর সুবিধা কী কী?
* পেট আরও ফ্ল্যাট, টোনড ও ফার্ম হয়ে যায়।
* একসাথে চর্বি আর ঢিলা চামড়া দূর করা যায়।
* শরীরের শেপ ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
* প্রচলিত টামি টাকের তুলনায় চামড়ায় কম টান পড়ে, ফলে সেরে ওঠা সহজ হয়।
এটা কি নিরাপদ?
* দক্ষ প্লাস্টিক সার্জন করলে সাধারণত নিরাপদ।
* তবে সব সার্জারির মতোই ইনফেকশন, ফ্লুইড জমা, দাগ বা দেরিতে সেরে ওঠার ঝুঁকি থাকতে পারে।
সার্জারির পর সঠিক যত্ন নিলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়।
সুস্থ হতে কতদিন লাগে?
* সাধারণত ২ সপ্তাহ পর হালকা কাজ করা যায়।
* পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ভারী কাজ বা এক্সারসাইজ করতে ৪–৬ সপ্তাহ লাগে।
* বিশেষ কমপ্রেশন গার্মেন্ট ব্যবহার করতে হয় দ্রুত সেরে ওঠার জন্য।
দাগ কি থাকবে?
* হ্যাঁ, তবে কাটা জায়গা সাধারণত পেটের নিচে (বিকিনি লাইনে) করা হয়, তাই দাগ চোখে কম পড়ে।
* সময়ের সাথে সাথে দাগ ফিকে হয়ে যায়।
ফলাফল কি স্থায়ী?
* হ্যাঁ, যদি ওজন স্থির রাখা যায় আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা হয়।
* গর্ভধারণ বা হঠাৎ ওজন ওঠানামা করলে ফলাফল বদলে যেতে পারে।
কেন অভিজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জনের কাছে যাওয়া উচিত?
* অভিজ্ঞ সার্জন স্বাভাবিক ও সুন্দর রেজাল্ট দিতে পারেন।
* ঝুঁকি কমে যায় আর দীর্ঘস্থায়ী ফল পাওয়া যায়।
* রোগী পান ফ্ল্যাট, সুন্দর ও আত্মবিশ্বাসী শরীরের শেপ।
সারসংক্ষেপে: লাইপোঅ্যাবডোমিনোপ্লাস্টি হলো একসাথে চর্বি কমানো আর পেট টানটান করার আধুনিক সার্জারি। যারা ফ্ল্যাট, টোনড পেট চান, তাদের জন্য এটি নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান।
