গাইনেকোমাস্টিয়া
গাইনোকমাস্টিয়া কী?
গাইনোকমাস্টিয়া হলো পুরুষদের এক ধরনের সমস্যা, যেখানে বুকে বাড়তি চর্বি বা গ্রন্থি টিস্যু জমে যায়। ফলে বুকটা স্বাভাবিকের চেয়ে বড় বা নারীদের মতো ফোলা দেখায়। এটা হরমোনের অসামঞ্জস্য, ওজন বাড়া, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অজানা কারণে হতে পারে।
গাইনোকমাস্টিয়া সার্জারি কী?
গাইনোকমাস্টিয়া সার্জারি, যেটা **মেল ব্রেস্ট রিডাকশন** নামেও পরিচিত, হলো একটা কসমেটিক অপারেশন যেখানে বুকের অতিরিক্ত টিস্যু, চর্বি এবং কখনও কখনও অতিরিক্ত চামড়া কেটে ফেলা হয়। এতে বুক ফ্ল্যাট, টাইট আর পুরুষালি শেপ পায়।
কারা এই সার্জারি থেকে উপকৃত হতে পারেন?
* যাদের বুক এক্সারসাইজ বা ডায়েটে কমছে না।
* যারা টাইট জামা পরতে বা জিমে যেতে অস্বস্তি বোধ করেন।
* যাদের বুকে ভারীভাব বা ব্যথা/অস্বস্তি আছে।
* যারা আরও আত্মবিশ্বাসী, স্বাভাবিক পুরুষালি বুক চান।
সার্জারি কীভাবে করা হয়?
* লিপোসাকশন: বুকের বাড়তি চর্বি বের করে দেওয়া হয়।
* এক্সিশন: অতিরিক্ত গ্রন্থি টিস্যু ও প্রয়োজনে চামড়া কেটে ফেলা হয়।
অনেক সময় দুই পদ্ধতি একসাথে ব্যবহার করা হয় আরও ভালো ফলাফলের জন্য।
এর সুবিধা কী কী?
* বুক ফ্ল্যাট ও ফার্ম হয়।
* স্বাভাবিক, পুরুষালি শেপ ফিরে আসে।
* বুকের অস্বস্তি কমে যায়।
* টাইট জামা বা সমুদ্র সৈকতে/জিমে আর লজ্জা থাকে না।
এটা কি নিরাপদ?
* দক্ষ প্লাস্টিক সার্জন করলে সাধারণত নিরাপদ।
* তবে ঝুঁকি হিসেবে ইনফেকশন, হালকা দাগ, ফ্লুইড জমা বা সাময়িক অবশভাব থাকতে পারে।
সার্জারির পর সঠিক যত্ন নিলে এসব ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়।
সুস্থ হতে কতদিন লাগে?
* সাধারণত ১ সপ্তাহ পর হালকা কাজ শুরু করা যায়।
* ভারী কাজ বা এক্সারসাইজ করতে ৩–৪ সপ্তাহ লাগে।
* কয়েক সপ্তাহ বিশেষ কমপ্রেশন গার্মেন্ট পরতে হয় দ্রুত সেরে ওঠার জন্য।
দাগ কি থাকবে?
* ছোটখাটো দাগ থাকতে পারে, যা সাধারণত নিপলের চারপাশে বা বুকের ভাঁজে লুকানো থাকে।
* সময়ের সাথে সাথে দাগ ফিকে হয়ে যায়।
ফলাফল কি স্থায়ী?
* হ্যাঁ, সাধারণত স্থায়ী হয়।
* ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা আর স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে ফল আরও ভালো থাকে।
কেন অভিজ্ঞ সার্জন বেছে নেওয়া জরুরি?
* যাতে বাড়তি টিস্যু নিরাপদে অপসারণ হয় এবং দাগ কম থাকে।
* যাতে ফলাফল দেখতে স্বাভাবিক ও পুরুষালি হয়।
* ঝুঁকি কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সন্তুষ্টি পাওয়ার জন্য।
সারসংক্ষেপে: গাইনোকমাস্টিয়া সার্জারি হলো পুরুষদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান, যাদের বুকে অতিরিক্ত টিস্যুর কারণে অস্বস্তি বা আত্মবিশ্বাস কম থাকে। এই সার্জারির মাধ্যমে বুক হয় ফ্ল্যাট, টোনড আর আরও পুরুষালি।
