বার্ন ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি

 
বার্ন ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি কী?

এটা প্লাস্টিক সার্জারির একটা বিশেষ শাখা, যেখানে পোড়া রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। শুধু ঘা সারানোই নয়—এর মাধ্যমে দাগ কমানো, হাত-পায়ের চলাফেরা স্বাভাবিক করা এবং চেহারার সৌন্দর্য ফিরিয়ে এনে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো হয়।

কখন বার্নে সার্জারি দরকার হয়?

সার্জারি লাগতে পারে যদি—

* ঘা অনেক গভীর হয় আর নিজে নিজে না শুকায়।

* পোড়ার দাগ শক্ত হয়ে গিয়ে হাত-পা বাঁকা করে দেয় (কনট্র্যাকচার)।

* মুখ, হাত বা জয়েন্ট আক্রান্ত হয়, যেখানে স্বাভাবিক কাজ ফিরিয়ে আনতে হয়।

* সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য বা আত্মবিশ্বাস ফেরানোর জন্য প্রয়োজন হয়।

কী কী ধরনের সার্জারি করা হয়?

* স্কিন গ্রাফটিং: শরীরের অন্য জায়গা থেকে সুস্থ চামড়া নিয়ে পোড়া জায়গায় বসানো।

* ফ্ল্যাপ সার্জারি: পাশের টিস্যু নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করা।

* কনট্র্যাকচার রিলিজ: শক্ত হয়ে যাওয়া দাগ কেটে ফেলে হাত-পায়ের নড়াচড়া ঠিক করা।

* স্কার রিভিশন: দাগের চেহারা সুন্দর করা।

* রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি: গুরুতর পোড়ায় বিকৃতি ঠিক করা।

এর উপকারিতা কী?

* গভীর ঘা দ্রুত শুকায়।

* হাত-পা আর জয়েন্টের নড়াচড়া স্বাভাবিক হয়।

* মোটা বা ব্যথাযুক্ত দাগ কমে যায়।

* চেহারা আরও প্রাকৃতিক ও স্বাভাবিক দেখায়।

* আত্মবিশ্বাস আর জীবনের মান ভালো হয়।

এটা কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, অভিজ্ঞ প্লাস্টিক সার্জনের মাধ্যমে করালে নিরাপদ। তবে সব সার্জারির মতোই কিছু ঝুঁকি থাকতে পারে—যেমন ইনফেকশন, দেরিতে শুকানো বা গ্রাফট বসতে না পারা। সঠিক যত্ন নিলে এগুলো সাধারণত হয় না।

রিকভারি বা সেরে ওঠার সময় কতদিন?

* পোড়ার মাত্রা আর সার্জারির ধরণের উপর নির্ভর করে সময় লাগে।

* নিয়মিত ড্রেসিং, ফিজিওথেরাপি আর ডাক্তার দেখানো খুব জরুরি।

* পুরোপুরি সেরে উঠতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসও লাগতে পারে।

* ধৈর্য আর নিয়মিত যত্নে ভালো ফল পাওয়া যায়।

ফলাফল কি স্থায়ী?

* দাগ অনেকটা ভালো হয়, তবে একেবারে মিলিয়ে যায় না।

* হাত-পায়ের নড়াচড়া একবার ঠিক হয়ে গেলে সঠিক থেরাপি করলে স্থায়ী হয়।

* সৌন্দর্যের দিক থেকে রেজাল্ট অনেকটাই স্থায়ী, আর আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।

আগেভাগে চিকিৎসা কেন জরুরি?

* দ্রুত চিকিৎসা ইনফেকশন আর জটিলতা কমায়।

* আগেভাগে সার্জারি করলে বিকৃতি বা অক্ষমতা হওয়ার ঝুঁকি কমে।

* যত তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু হয়, তত দ্রুত শারীরিক আর মানসিকভাবে সুস্থ হওয়া যায়।

সংক্ষেপে: বার্ন ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি শুধু দাগ বা ঘা সারায় না, বরং স্বাভাবিক চলাফেরা ফিরিয়ে আনে, সৌন্দর্য বাড়ায় এবং রোগীকে আবার স্বাভাবিক জীবনে আত্মবিশ্বাসের সাথে ফিরতে সাহায্য করে।