অ্যাপয়েন্টমেন্ট করুন
01842182545 (হোয়াটসঅ্যাপ)
অ্যাপয়েন্টমেন্ট করুন
01842182545 (হোয়াটসঅ্যাপ)
একাগ্রা হেলথ, ওহাব পয়েন্ট, হাউজ নং ১৩, ফ্লোর ৭, রোড নং ২ ধানমন্ডি, ঢাকা
অ্যাপয়েন্টমেন্ট করুন
01842182545 (হোয়াটসঅ্যাপ)
একাগ্রা হেলথ, ওহাব পয়েন্ট, হাউজ নং ১৩, ফ্লোর ৭, রোড নং ২ ধানমন্ডি, ঢাকা










১৯৮০ সালে বাংলাদেশ আর্মি মেডিক্যাল কোরে কর্মরত বাবা–মায়ের পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ডা. চৌধুরী রাশেদুল মুঘনি। ছোটবেলা থেকেই তিনি বড় হয়েছেন শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ এবং সেবার পরিবেশে। সামরিক জীবনের নিয়মনীতি ও চিকিৎসা নৈতিকতার চর্চা তাকে খুব অল্প বয়স থেকেই জীবনের একটি পরিষ্কার লক্ষ্য গড়ে নিতে সাহায্য করে। রোগীদের সেবা, দায়িত্ব পালন এবং মানুষের প্রতি সহমর্মিতা—এসব বিষয় তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এই অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে চিকিৎসা পেশার প্রতি আগ্রহী করে তোলে এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার ইচ্ছা দৃঢ় করে।
এই শুরুর অভিজ্ঞতাগুলোই তার মনে চিকিৎসা পেশার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করে এবং মানুষের সেবা ও চিকিৎসায় নিজেকে উৎসর্গ করার ইচ্ছাকে আরও শক্ত করে। সততা, অধ্যবসায় আর সহমর্মিতার মতো মূল্যবোধকে সামনে রেখে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে একজন চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পথ তৈরি করেন। এভাবেই তিনি এমন একটি মজবুত ভিত্তি তৈরি করেন, যার ওপর দাঁড়িয়ে তিনি সারাজীবন মানুষের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা উন্নত করার কাজে নিজেকে নিবেদিত রাখেন।


ডা. রাশেদ ১৯৯৮ সালে কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এই প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাপূর্ণ ও কঠোর একাডেমিক পরিবেশ তার দায়িত্ববোধ, সহনশীলতা ও উৎকর্ষের মানসিকতা আরও শক্তিশালী করে।
চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ভর্তি হন আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ (AFMC)-এ। সেখানে পড়াশোনার সময় তিনি মজবুত একাডেমিক ভিত্তি তৈরি করেন এবং নৈতিকতা, দলগত কাজ ও সেবার মানসিকতা গড়ে তোলেন। কঠোর পরিশ্রম ও একাগ্রতার মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে তার স্বপ্নের পথে এগিয়ে যান।
২০০৪ সালে পাঁচ বছরের কঠোর পড়াশোনা ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ শেষে তিনি কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনজুড়ে তিনি ছিলেন মনোযোগী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং রোগীসেবায় নিবেদিত।
ঢাকা কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতাল (CMH)-এ ইন্টার্নশিপ করার সময় তিনি নানা জটিল রোগীর চিকিৎসায় সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এই সময়েই তার সার্জারির প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। সার্জারি এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে সঠিক সিদ্ধান্ত, নিখুঁত দক্ষতা এবং সহমর্মিতা—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন। এই অভিজ্ঞতাই তাকে সার্জন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করে।


সার্জারির প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU) এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (DMCH)-এ উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন। এসব বড় ও ব্যস্ত হাসপাতালের অভিজ্ঞতা তাকে জটিল সার্জিক্যাল কেস, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসা সম্পর্কে দক্ষ করে তোলে।
অভিজ্ঞ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি তার অপারেশন দক্ষতা ও ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আরও শাণিত করেন। এই সময়টিই তার পেশাগত জীবনের শক্ত ভিত তৈরি করে।
পরবর্তীতে তিনি বারডেম জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত থাকেন এবং বহু জটিল রোগীর সফল চিকিৎসা করেন। তার নিষ্ঠা, সঠিক চিকিৎসা সিদ্ধান্ত এবং রোগীকেন্দ্রিক মনোভাব তাকে সহকর্মী ও শিক্ষকদের মাঝে বিশেষ সম্মান এনে দেয়।
২০১৩ সালে তিনি সফলভাবে Membership of the Royal College of Surgeons (MRCS) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস অব ইংল্যান্ড-এর সদস্যপদ লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ড ও এডিনবরো—উভয় স্থান থেকেই MRCS অর্জন করেন, যা তার কঠোর একাডেমিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মানের যোগ্যতার প্রমাণ।ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ে হওয়া জটিল ও গুরুতর সমস্যাগুলো কাছ থেকে দেখে তিনি সহকর্মীদের সঙ্গে মিলে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম সমন্বিত ডায়াবেটিক ফুট কেয়ার সেন্টার “Bangladesh Diabetic Wound and Foot Care Limited” প্রতিষ্ঠা করেন।
২০২৪ সালে তিনি Fellowship of the American College of Surgeons (FACS) অর্জন করেন, যা তার সার্জিক্যাল ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।


রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির প্রতি আগ্রহ থেকে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি (NIBPS)-এ বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। এখানে তিনি বার্ন, ট্রমা এবং জটিল পুনর্গঠনমূলক সার্জারির ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS) থেকে প্লাস্টিক ও রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারিতে FCPS ডিগ্রি অর্জন করেন, যা তার বিশেষজ্ঞ অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
FCPS করার সময় তিনি জটিল রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি ও বার্ন ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করেন। এছাড়া সিঙ্গাপুরে হ্যান্ড সার্জারিতে প্রশিক্ষণ নেন এবং ইন্ডিয়ান পডিয়াট্রি অ্যাসোসিয়েশন (IPA) থেকে Fellowship in Diabetic Foot Management (FDFM) সম্পন্ন করেন।
বাংলাদেশের প্রথম সমন্বিত ফুট কেয়ার সেন্টারের একজন অগ্রদূত হিসেবে ডা. চৌধুরী রাশেদুল মুঘনি ডায়াবেটিক ফুট চিকিৎসার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রোগীকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহমর্মিতাপূর্ণ চিকিৎসার জন্য তিনি সুপরিচিত। তার পুরো পেশাগত পথচলা জুড়ে রয়েছে অধ্যবসায়, নতুন চিন্তা ও উদ্ভাবন, এবং দেশে ও দেশের বাইরে সার্জারিতে উৎকর্ষ ধরে রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম আধুনিক ক্ষত (wound) চিকিৎসা কেন্দ্র ‘একাগ্রা হেলথ’-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


ডা. রাশেদ তার এস্থেটিক সার্জারির যাত্রা শুরু করেন দুবাইয়ে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। পরে দেশের অন্যতম খ্যাতনামা এস্থেটিক সার্জন প্রফেসর সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকীর অধীনে এক বছরব্যাপী ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন।
এরপর তিনি তুরস্কে হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টে ফেলোশিপ করেন এবং বাংলাদেশে আধুনিক হেয়ার রিস্টোরেশন প্রক্রিয়া চালু করা প্রথমদিকের প্লাস্টিক সার্জনদের একজন হন। প্রফেসর সাঈদ আহমেদ সিদ্দিকীর সাথে মিলে তিনি ‘Mane Miracle’ প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলাদেশে রাইনোপ্লাস্টির চাহিদা বাড়তে থাকায় তিনি তুরস্কে এস্থেটিক রাইনোপ্লাস্টিতে বিশেষ ফেলোশিপ সম্পন্ন করেন, যা তাকে ফেসিয়াল ও হেয়ার এস্থেটিক সার্জারিতে একজন শীর্ষস্থানীয় সার্জন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
