ডায়াবেটিক ফুট সার্জারি

 
ডায়াবেটিক ফুট কী?

ডায়াবেটিস রোগীদের অনেক সময় পায়ে নানা সমস্যা হয়। রক্তে চিনি বেশি থাকলে রক্তনালী আর স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে রক্ত চলাচল কমে যায়, অনুভূতি কমে যায়, ঘা হয় আর সেটা সহজে শুকায় না।

কখন ডায়াবেটিক ফুটে সার্জারি দরকার হয়?

সার্জারি করতে হতে পারে যদি—

* ঘা বা আলসার ওষুধ বা ড্রেসিংয়ে না শুকায়।

* সংক্রমণ গভীরে ছড়িয়ে পড়ে (মাংসপেশি বা হাড় পর্যন্ত)।

* আঙুল বা পায়ে মৃত টিস্যু (গ্যাংগ্রিন) দেখা দেয়।

* প্রচণ্ড ব্যথা, ফোলা বা পুঁজ জমে যায়।

* রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যেটা ভাসকুলার সার্জারির মাধ্যমে ঠিক করতে হয়।

কী কী ধরনের সার্জারি করা হয়?

* ডেব্রাইডমেন্ট: মৃত বা ইনফেকশন হওয়া টিস্যু কেটে ফেলা।

* অ্যাবসেস ড্রেনেজ: পুঁজ বের করে দেওয়া।

* স্কিন গ্রাফট বা ফ্ল্যাপ সার্জারি: বড় ঘা ঢাকার জন্য।

* রিভাসকুলারাইজেশন সার্জারি: রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য।

* আঙুল বা পায়ের কাটা (অ্যামপুটেশন): একেবারে জরুরি হলে, যাতে ইনফেকশন না ছড়িয়ে পড়ে এবং বাকি পা বাঁচানো যায়।

সার্জারির উপকারিতা কী?

* ইনফেকশন ছড়ানো বন্ধ হয়।

* ঘা দ্রুত শুকায়।

* পা বা পায়ের বড় অংশকে জটিলতা থেকে বাঁচানো যায়।

* হাঁটার সুবিধা আর জীবনের মান ভালো হয়।

ডায়াবেটিক ফুট সার্জারি কি নিরাপদ?

* হ্যাঁ, তবে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ হতে সময় বেশি লাগে।

* ঝুঁকি থাকতে পারে—যেমন ইনফেকশন, ধীরে শুকানো, আবার ঘা হওয়া যদি চিনি নিয়ন্ত্রণে না থাকে।

* তবে ডায়াবেটিস ভালোভাবে কন্ট্রোল করলে রেজাল্ট ভালো হয়।

সার্জারির পর কেমন যত্ন লাগে?

* কোন ধরনের সার্জারি হয়েছে তার উপর নির্ভর করে হাসপাতালে থাকতে হতে পারে।

* নিয়মিত ড্রেসিং আর যত্ন খুব জরুরি।

* রক্তে শর্করা ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

* ফিজিওথেরাপি আর বিশেষ জুতা ব্যবহার করতে হতে পারে হাঁটার জন্য।

কীভাবে ডায়াবেটিক ফুট প্রতিরোধ করা যায়?

* রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা।

* প্রতিদিন পা ভালো করে দেখা—কোথাও কেটে গেছে বা ফোস্কা পড়েছে কিনা।

* আরামদায়ক জুতা পরা।

* পায়ে কোনো ঘা বা আলসার হলে সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাওয়া।

সংক্ষেপে: ডায়াবেটিক ফুট সার্জারি অনেক সময় পা বাঁচানোর জন্য জরুরি হয়। তবে আগেভাগে চিকিৎসা নেওয়া, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা আর নিয়মিত পায়ের যত্ন নিলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো যায়।